[বিয়ে পড়ানোর সময় কি কি বলতে হয় জেনে নিন]
ইসলামের একটি অন্যতম সুন্নাত হচ্ছে বিয়ে করা।হারাম কাজ থেকে বাঁচার জন্য সবচেয়ে উওম উপায় হচ্ছে বিয়ে করা। তবে বিয়ে করার জন্য কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। অনেকেই বিয়ে করার পূর্বে জানতে চায় যে, বিয়ে পড়ানোর সময় কি কি বলতে হয়। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে বিয়ে পড়ানোর সময় কি কি বলতে হয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। কাজেই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
তাছাড়া আরো আলোচনা করবো-বিবাহ পড়ানোর খুতবা, বিয়ের খুতবা কখন পড়তে হয়, কালেমা পড়ে বিয়ে করার নিয়ম, সাক্ষী ছাড়া কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যায়, মুখে কবুল না বললে কি বিয়ে হবে,আমার বিয়ে হবে কি না কিভাবে বুঝবো,মেসেঞ্জারে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যায়।
আর্টিকেল সূচিপত্র -বিয়ে পড়ানোর সময় কি কি বলতে হয় সংশ্লিষ্ট সূচিপত্র
- বিয়ে পড়ানোর সময় কি কি বলতে হয়
- বিবাহ পড়ানোর খুতবা
- বিয়ের খুতবা কখন পড়তে হয়
- কালেমা পড়ে বিয়ে করার নিয়ম
- সাক্ষী ছাড়া কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যায়
- মুখে কবুল না বললে কি বিয়ে হবে
- আমার বিয়ে হবে কি না কিভাবে বুঝবো
- মেসেঞ্জারে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যায়
- লেখকের মন্তব্য
আরও পড়ুনঃ জমজমের পানি খাওয়ার নিয়ম জেনে নিন
বিয়ে পড়ানোর সময় কি কি বলতে হয়
বিয়ে পড়ানোর সময় কি কি বলতে হয় তা নিয়ে আর্টিকেলের শুরুতেই আলোচনা করবো-
বিবাহ হচ্ছে এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে একজন নারী ও পুরুষ একএিত হয়। বিয়ে সংঘটিত হওয়ার কতগুলো শব্দ রয়েছে যেমন বিয়ে করলাম বা বিয়ে কবুল করলাম বা বিয়ে দিলাম। একটি বিয়েতে বর কণে থাকা মুখ্য বিষয়। বিয়ের আগে অবশ্যই পাএ পাএীর সম্মতি থাকতে হবে। বিয়ে অবশ্যই সুন্নাত পদ্ধতিতে হতে হবে। তা না হলে বর কণে উভয়ই বরকত থেকে বঞ্চিত হবে। ইসলামি বিবাহের নিয়ম হচ্ছে জুমার দিনে মসজিদে বিয়ে করা। কারণ এতে জনসমাগম যেমন বেশি হয় ঠিক তেমনি ঘোষণাও হয়ে যায়।
বিয়ে করার পূর্বে অবশ্যই অবিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।যিনি বিবাহ পড়াবেন তিনি অবশ্যই বরকে উদ্দেশ্য করে বলবেন যে অমুকের মেয়ে এত টাকা মোহরানা ধার্য করিয়া আপনার সাথে বিবাহ দিলাম। এবার আপনি কবুল বলুন। বরকে তিনবার কবুল বলতে হবে। এসময় অবশ্যই দুজন সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে।বর এবং কণেকে কবুল বলতে হয় আর কনের পক্ষ হতে তার অভিভাবক অনুমতি নিবেন। খুতবা দেওয়া পর প্রস্তাব দেওয়া নেওয়া করতে হয়।
এক্ষেত্রে বর যদি বোবাও হয় সেক্ষেত্রেও লিখার মাধ্যমে বা ইশারায় বিবাহ সম্পন্ন করা যাবে। এভাবেই বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যাবে। বিবাহ সম্পন্ন করার পর সবাই পৃথক পৃথকভাবে দোয়া পাঠ করবে যাতে নব দম্পতির জীবন সুখে সমৃদ্ধিতে ভড়ে উঠে। বিবাহ পড়ানোর সময় মূলত এগুলোই পড়তে হয়৷
বিবাহ পড়ানোর খুতবা
বিয়ের একটি অন্যতম অনুষঙ্গ অংশ হচ্ছে খুতবা পড়া। খুতবা সবসময় দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। তবে বসেও খুতবা আদায় করা যায়। খুতবা সবসময় আরবিতে পড়তে হয়।আল্লাহ ও রাসূলগণের প্রশংসাসূচক খুতবা দিতে হয়।এবার আমরা একটি খুতবার বাংলা উচ্চারণ দেখবো -
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা সকলেই তার প্রশংসা করি। তার কাছেই সকল কিছুর প্রার্থনা করি এবং ক্ষমা চাই। আমরা সবসময় আমাদের খারাপ কর্মগুলো থেকে এবং নফস থেকে তার কাছে প্রার্থনা করি।আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হিদায়াত দান করেন এবং কাউকে পথ ভ্রষ্ট করলেও কেউ ভিভ্রান্ত করতে পারে না। আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তার কোনো শরীক নেই। তিনি একক এবং অদ্বিতীয়। নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (স:) আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল।
হে ইমানদারগণ, তোমরা সকলে আল্লহকে ভয় করো এবং কেউ মুসলমান হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। প্রকৃত সফলতা তারাই অর্জন করে যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিবাহের ব্যাপারে বলেছেন যে এমন কাউকে বিয়ে করা যে তার স্বামীকে অনেক বেশি ভালোবাসে এবং অধিক সন্তান দিতে সক্ষম।
কোরআনের যেকোনো আয়াতে খুতবা দেওয়া যাবে কিন্তু তাতে আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুনঃ সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ
বিয়ের খুতবা কখন পড়তে হয়
এখন আপনি জানবেন বিয়ের খুতবা কখন পড়তে হয়। মূলত বিয়ের খুতবা সাক্ষীর উপস্থিতিতে পড়তে হয় এবং ইজাব কবুলের আগে পড়া সুন্নত। খুতবা না পড়লেও গুনাহ হবে না। আর খুতবা পড়লে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে এরকম কোনো বিধানও ইসলামে নেই। খুতবা দেওয়ার সময় দাঁড়িয়ে দিতে হবে। বসে দিলেও গুনাহ হবে না। তবে দাঁড়িয়ে খুতবা পড়লে নবীজীর সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।
আরও পড়ুনঃ করোসল ফল বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায়
কালেমা পড়ে বিয়ে করার নিয়ম
কালেমা পড়ে বিয়ে করার কোনো নিয়ম ইসলামে বিদ্যমান নেই। বিয়েতে ছেলে মেয়ে উভয়কে কবুল বলা বা সম্মতিসূচক বাক্য ব্যবহার করতে হয়। তাহলেই কেবল বিয়ে হয়। কবুল বলা শব্দটিকে কেউ যদি কালেমা অর্থে ব্যবহার করে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। তবুও কালেমা পড়ে বিয়ে করা এরকম বিভ্রান্তির কোনো বিষয় নেই।
আরও পড়ুনঃ ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ
সাক্ষী ছাড়া কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যায়
বিয়ে হচ্ছে একটি পবিএ বন্ধন। ইসলামে নবী রাসুলদের বিয়ে করতে দেখা যায়। কারণ বিয়ে করা সুন্নত এবং এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়।অনেক প্রেমিক প্রেমিকা বা তরুন প্রজন্ম সাক্ষী ছাড়া কবুল বলে ফেলে এবং পরবর্তীতে জানতে চায় যে সাক্ষী ছাড়া কবুল বললে বিয়ে হয়ে যায় কি না। ইসলামি শরিয়তের বিয়ে করার জন্য কতগুলো শর্ত রয়েছে। এসব শর্ত না মানলে বিয়ে কবুল হবে না। শর্তগুলো হচ্ছে -
- বর ও কনে উভয়কে কবুল বলতে হবে।
- ইজাব এবং কবুল বলার সময় অবশ্যই উভয়পক্ষের দুইজন মুসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী থাকতে হবে।
- উভয় পক্ষের সাক্ষীকে কবুল ও ইজাবা বলার সময় ভালো করে শুনতে হবে।
যেহেতু বিয়ে করার জন্য উপরোক্ত শর্তগুলো মানা প্রয়োজন এবং একটি শর্তেরও খিলাপ হলে বিয়ে হবে না কাজেই সাক্ষী ছাড়া কবুল বললে বিয়ে হবে না।
আরও পড়ুনঃ মহাখালী কলেরা হাসপাতাল ঠিকানা
মুখে কবুল না বললে কি বিয়ে হবে
অনেকের মুখেই এই কথা বলতে শোনা যায় যে বিবাহ করার সময় যদি কেউ মুখে কবুল না বলে বা ইজাব পেশ না করে তাহলে বিয়ে হবে না। আসলে এই ধারণাটি মোটেও সঠিক নয় কেননা বিয়ের জন্য কবুল এই শব্দটিই বলতে হবে তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কেউ যদি কবুলের পরিবর্তে আলহামদুলিল্লাহ গ্রহণ করিলাম এরকম শব্দও উচ্চারণ করে তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে। এরকম অনেক মানুষ আছে যারা বোবা তারাও তো বিয়ে করে। সেক্ষেত্রে সম্মতি হচ্ছে আসল শর্ত, বিয়ে করার জন্য। সুতরাং মুখে কবুল না বললেও বিয়ে হবে যদি বিয়ে করার সম্মতি থাকে।
আরও পড়ুনঃ কলেরা রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ
আমার বিয়ে হবে কি না কিভাবে বোঝবো
জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে এগুলো হচ্ছে আল্লাহর হাতে। পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি সৃষ্টিকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আপনার সঙ্গীও যদি থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বিয়ে হবে। তবে বিয়ে করার জন্য প্রথমে আপনার চেষ্টা থাকা দরকার। আপনি যদি বিয়ে করার চেষ্টাই না করেন তাহলে কিভাবে বিয়ে হবে? চেষ্টা করলে অবশ্যই আল্লাহর হুকুমে বিয়ে হয়ে যাবে। আমার বিয়ে হবে কি না এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর নেই। বিয়ে হচ্ছে একটি মানুষের সারাজীবনের দায়িত্ব নেওয়া। যদি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে অবশ্যই কতকগুলো পরিবর্তন আপনার মধ্যে নিয়ে আসবেন। যেমন - সঙ্গীকে বুঝতে পারা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা, সঙ্গীর ব্যাথায় ব্যাতীত হওয়া। তাছাড়া নিয়মিত নামাজ পড়ে একজন নেককার স্ত্রীর বা স্বামী পাওয়ার জন্য দোয়া করবেন।
আরও পড়ুনঃ জার্মানিতে যেতে IELTS কত পয়েন্ট লাগে
মেসেঞ্জারে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যায়
অনেকেই জানতে চায় যে মেসেঞ্জারে কবুল বললে বিয়ে হয়ে যায় কি না।আসলে মেসেঞ্জারে কবুল বললে বিয়ে হবে না। কেননা শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে কবুল হওয়ার জন্য দুইজন সাক্ষীর প্রয়োজন। যেহেতু মেসেঞ্জারে কোনো সাক্ষী উপস্থিত থাকে না কাজেই বিয়ে হবে না। তবে দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক নর নারী যদি দুজন সাক্ষীর সামনে একজন আরেকজনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং দুজনই সম্মত দেয় তাহলে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিয়ে হয়ে যাবে।সুতরাং মেসেঞ্জারে তিনবার নয় এক কোটি বার কবুল বললেও বিয়ে হবে না।
আরও পড়ুনঃ বাহরাইন যেতে কত টাকা লাগে
লেখকের মন্তব্য
আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে বিয়ে পড়ানোর সময় কি কি বলতে হয় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বিয়ে হচ্ছে সারাজীবনের একটি সিদ্ধান্ত। বিয়ে করার পূর্বে অবশ্যই সঠিক সঙ্গী নির্বাচন করুন।একজন ভুল মানুষ আপনার জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আশা করছি আর্টিকেলটি থেকে নতুন অনেক তথ্য পেয়েছেন। আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার মতামত, পরামর্শ কিংবা প্রশ্ন আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইটMy Teach Info। ধন্যবাদ।
My Teach Info এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url