ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫ - আবেদন প্রক্রিয়া,ভিসা যোগ্যতা,ভিসা খরচ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যতম একটি ভালো দেশ হচ্ছে ইতালি। প্রতিবছরই ইতালির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেয়। বাংলাদেশী স্টুডেন্টরা পড়াশোনার জন্য ইতালিকে বেছে নেয় এবং ইতালির স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫ সম্পর্কে জানতে চায়। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে ইতালির স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫ নিয়ে আলোচনা করবো। কাজেই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। 

ইতালি-স্টুডেন্ট-ভিসা

তাছাড়া আরো আলোচনা করবো- ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া,ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা যোগ্যতা,ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা খরচ,বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালি ভিসা অনুপাত কত, ইতালির ভিসা হতে কতদিন সময় লাগে,ইতালিতে পড়াশোনার খরচ কেমন,ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

আর্টিকেল সূচিপত্র - ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫ সংশ্লিষ্ট সূচিপত্র  

ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫ 

ইতালির স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫ নিয়ে শুরুতেই জানতে পারবেন। 
উচ্চ শিক্ষার জন্য যে দেশগুলোতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ থাকে তার মধ্যে ইতালি একটি। চলুন ইতালির কয়েকটি জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় যেগুলো র‍্যাংকিং এ প্রথমের দিকে রয়েছে সেগুলো এক নজরে দেখে নেই। 
  • ইউনিভার্সিটি অব তুরিন 
  • ইউনিভার্সিটি অব পাদুয়া
  • পলিটেকনিকো ডি টরিনো 
  • স্যাপিয়েন্জা ইউনিভার্সিটি অব রোম
  • পলিটেকনিকো ডি টরিনো
  • ইউনিভার্সিটি অব মিলান 
  • ইউনিভার্সিটি অব তুরিন
  • ইউনিভার্সিটি অব বোলোগনা 
  • ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরেন্স 
উপরোক্ত ইউনিভার্সিটিগুলো প্রতিবছর বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। স্টুডেন্ট ভিসায় ইতালি যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে অর্থাৎ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক। এরকম কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লিস্ট করবেন। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ওয়েবসাইট এ আপনি যে কোর্সের জন্য ভর্তি হতে চান যেমন অনার্স, মাস্টার্স বা পিএসডি সিলেক্ট করবেন। সিলেক্ট করার পর দেখবেন যে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করবেন। তারপর ভিসা আবেদন করে আপনার ভিসা পেয়ে পাড়ি জমাবেন ইতালিতে। 

ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া

ইউরোপের অন্যান্য সেনজেন দেশগুলোতে যেমন দুই সেমিস্টার পদ্ধতি মানা হয় ঠিক তেমনি ইতালির ক্ষেত্রেও তাই। প্রথম ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয় নভেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে। এপ্রিল থেকে জুলাই এর মধ্যে সকল কোর্সের আবেদন শেষ হয়ে যায় এবং কোর্স শুরু হয় অক্টোবরের শুরুতে বা সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে। দ্বিতীয় আবেদন শুরু হয় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে সকল ভর্তি শেষ করা হয় এবং কোর্স শুরু করে দেওয়া হয়। আবেদন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আবেদন শুরু এবং শেষের তারিখ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং খরচ উল্লেখ্য করা থাকে৷ 

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালি ডি টাইপ ভিসা দিয়ে থাকে। এই ভিসায় আপনি ৯০ দিনের বেশি ইতালিতে বসবাস করতে পারবেন। ভিসার মেয়াদ হচ্ছে ফুল টাইম স্টাডি প্রোগ্রামের সম্পূর্ণ সময়কাল। এই ভিসার আবেদন আপনি ভিএফএস গ্লোবাল এর মাধ্যমে করতে পারবেন। https://visa.vfsglobal.com/one-pager/italy/bangladesh/english/pdf/visa-d এখান থেকে একটি আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করে নিবেন। তারপর তা সঠিকভাবে পূরণ করে নিজে স্বাক্ষর করে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপএ সহ ভিসা আবেদন কেন্দ্রে জমা দিবেন। এজন্য আপনাকে অনলাইনে কোনো ধরনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে না। 

ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা যোগ্যতা 

ইতালি-স্টুডেন্ট-ভিসা
একটু আগে আপনারা ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া দেখলেন।আবেদন করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। নিচে ইতালি স্টুডেন্ট ভিসার যোগ্যতা দেওয়া হলো:
  • একটি বৈধ পাসপোর্ট। 
  • পূরণকৃত আবেদন ফরম 
  • IELTS স্কোর।আইইএলটিএস স্কোর হতে হবে কমপক্ষে ৬ তবে মাস্টার্সের জন্য কমপক্ষে ৬.৫। টোফেল আইবিটিতে পেতে হবে ৭৯। 
  • পিএসডি করতে হলে আইইএলটিএস স্কোর পেতে হবে ৭ 
  • মটিভেশনাল লেটার 
  • স্বাস্থ্য বীমা ও মেডিকেল সার্টিফিকেট
  • স্টেটমেন্ট অফ পার্পাস
  • পিএসডি করার জন্য প্রাসঙ্গিক পাবলিকেশনের সারাংশ
  • ইতালিতে বসবাসের প্রমাণপএ 
  • বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ভর্তির অফার লেটার
  • ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট 
  • রঙিন ছবি (পাসপোর্ট সাইজের)
সুতরাং ভিসা আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই উপরোক্ত কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত করে তবেই ভিসার জন্য আবেদন করবেন। 

ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা খরচ 

পড়াশোনা করার জন্য ইউরোপের দেশ ইতালি খুবই জনপ্রিয়। প্রতিবছরই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ইউরোপের দেশ ইতালিতে যায়। ভিসা খরচ বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে দালালের মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করা। আপনি যদি ভিসার সকল কাজকর্ম নিজে নিজে করেন তাহলে ৫০ হাজারের বেশি খরচ হবে না। তবে বেসরকারিভাবে ভিসা করতে আপনার খরচ পড়তে পারে প্রায় তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা।কাজেই দেরি না করে আজই ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ শুরু করে দিন।  

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালির ভিসা অনুপাত  

অনেকেই যারা ইতালি যেতে ইচ্ছুক তারা প্রথমে জানতে চায় যে ইতালিতে বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা হওয়ার অনুপাত কত। অর্থাৎ বাংলাদেশীরা কেমন ভিসা পায়।বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালির ভিসা অনুপাত হচ্ছে প্রায় ৮০%। অর্থাৎ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা ভালো পরিমাণে ইতালির ভিসা দিয়ে থাকে। 

ইতালির ভিসা হতে কত দিন সময় লাগে 

ইতালি যাওয়ার পূর্বে শিক্ষার্থীদের মনে একটি প্রশ্ন থাকে যে ইতালির ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগে। সাধারণত ইতালির ভিসা পেতে ২১ কর্মদিবস সময় লাগে। তবে বিভিন্ন কারণে এই সময় আরো দীর্ঘও হতে পারে। 

ইতালিতে পড়াশোনার খরচ কেমন 

ইতালি-স্টুডেন্ট-ভিসা
ইতালিতে পড়াশোনা করতে কত টাকা খরচ হবে তা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে থাকে। যেমন:প্রতিষ্ঠানের ধরণ,বিষয়,কোর্সের ধরণ ইত্যাদি। একটি স্টাডিতে দেখা গেছে যে আপনি যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অধ্যয়ন করতে চান তাহলে আপনার বার্ষিক খরচ হতে পারে ৯০০ থেকে ৪০০০ ইউরো এর মতো। আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করলে আপনার খরচ হতে পারে ছয় হাজার থেকে বিশ হাজার ইউরো এর মধ্যে। আবার শহরগুলোর উপরও আপনার খরচের পরিমাণ নির্ভর করে। যেমন :আপনি যদি ব্যায়বহুল কোনো শহরে থাকেন তাহলে আপনার খরচও বেশি হবে। 

আপনি যদি ইতালির তুরিনে থাকেন তাহলে আপনার খরচ হতে পারে ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ইউরো এর মতো, আবার মিলানে থাকলে সবকিছু মিলিয়ে খরচ হতে পারে এক হাজার ইউরো এর মতো, ফ্লোরেন্সে খরচ হতে পারে আটশ থেকে এক হাজার তিনশত ইউরোর মতো।এই টাকা আপনি পড়াশোনার পাশাপাশি জব করে উঠিয়ে ফেলতে পারবেন। এজন্য আপনার স্টুডেন্ট ভিসার পাশাপাশি রেসিডেন্ট ভিসারও প্রয়োজন হবে। ওয়ার্ক রেসিডেন্ট ভিসায় আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারবেন। এ ধরনের চাকরি ইতালির মিলানে অনেক বেশি পাওয়া যায়। 

ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা ব্যাংক স্টেটমেন্ট 

আপনি যদি ইতালিতে স্টুডেন্ট ভিসা পেতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট আপনার হতে হবে এমনটা নয় আপনার অভিভাবকের ব্যাংক স্টেটমেন্টও দেখাতে পারবেন।ব্যাংক স্টেটমেন্টের মাধ্যমে আপনাকে এটা বোঝাতে হবে যে আপনি ইতালিতে পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ সহজেই মেটাতে পারবেন। ব্যাংক স্টেটমেন্টে অবশ্যই ছয় মাসের লেনদেন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ব্যালেন্সের পরিমাণ এবং মাসিক আয়ের স্পষ্ট বিবরণ থাকতে হবে। আপনার অভিভাবকের মাসিক আয়ের উপর ভিওি করে এই স্টেটমেন্ট তৈরি করবেন। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ব্যাতীত ভিসা পাওয়া অসম্ভব। 

লেখকের মন্তব্য 

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করছি উপরোক্ত আর্টিকেলটি পড়ে আপনার স্টুডেন্ট ভিসায় ইতালি যেতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার মতামত, পরামর্শ কিংবা প্রশ্ন আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট My Teach Info। ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

My Teach Info এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url