অতিরিক্ত সাদাস্রাব হওয়ার কারণ - করণীয়, চিকিৎসা, ঘরোয়া উপায়

সাদাস্রাবের আরেক নাম হচ্ছে লিউকোরিয়া।প্রতিটি নারীরই সাদাস্রাব হয়ে থাকে। সাদাস্রাব শারীরবৃত্তীয় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা হলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। একেক জনের ক্ষেত্রে সাদাস্রাবের পরিমাণ একেক রকম হয়ে থাকে।তবে অনেকের আবার অতিরিক্ত পরিমানে হয় এবং তারা অতিরিক্ত সাদাস্রাব হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চায়। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে অতিরিক্ত সাদাস্রাব হওয়ার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করবো। কাজেই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।  

অতিরিক্ত-সাদাস্রাব-হওয়ার-কারণ
তাছাড়া আরো আলোচনা করব - অতিরিক্ত সাদাস্রাব হলে কি হয়, অতিরিক্ত সাদাস্রাব হলে করণীয়। 

আর্টিকেল সূচিপত্র - অতিরিক্ত সাদাস্রাব হওয়ার কারণ সংশ্লিষ্ট সূচিপত্র 

অতিরিক্ত সাদাস্রাব হওয়ার কারণ 

অতিরিক্ত সাদাস্রাব হওয়ার কারণ সম্পর্কে পোস্টের শুরুতেই জানতে পারবেন। 
সাধারণত মেয়েদের সাদাস্রাব শুরু হয় প্রথম মাসিক হওয়ার দুই তিন মাস আগে থেকেই এবং তা মেনোপজ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত চলতে থাকে।এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে অতিরিক্ত সাদাস্রাব হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ। শরীরের এই বিশেষ সমস্যাটি যেসব কারণে হতে পারে সেগুলো হচ্ছে -
  • কৃমি জনিত সংক্রমণের জন্য সাদাস্রাব হতে পারে। আপনার পেটে যদি কৃমি বাসা বাধে তাহলে আপনি যতই পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন না কেনো শরীরের কোনো কাজে আসবে না এবং সাদাস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
  • অপরিষ্কার কাপড় যদি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করেন তাহলেও সাদাস্রাবের সমস্যা হতে পারে। 
  • অত্যাধিক পরিমানে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে সাদাস্রাব হতে পারে। 
  • দীর্ঘদীন যাবত অপুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করলে এই সমস্যাটি হতে পারে। 
  • কাজের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে হতে পারে সাদাস্রাব। 
  • মনের সাথে শারীরিক স্বাস্থ্য এতপ্রোতভাবে জড়িত। আপনি যদি অত্যাধিক পরিমাণে মানসিক চাপে থাকেন তাহলে শরীরে এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে করে আপনার সাদাস্রাব হতে পারে। 
  • বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হতে পারে সাদাস্রাব। 
  • ভ্যাজাইনাল বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের জন্য হতে পারে সাদাস্রাব। 
  • পিরিয়ডের সময় একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন যদি দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকেন তাহলেও হতে পারে। 
  • অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে 
  • ইউটিআই হলে
  • জরায়ু ক্যান্সার 
  • মেনোপজের কারণে 
কম পরিমান সাদাস্রাব হওয়া কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা হয় তখন যখন তা মাএাতিরিক্ত হয়ে যায়। তবে কয়েকটি ক্ষেএে স্বাভাবিকভাবেই সাদাস্রাব বেশি হয়। যেমন- অতিরিক্ত উওেজিত হলে, গর্ভাবস্থায়,জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণে, মাসিকের কয়েকদিন আগে। এসময় গুলো ব্যাতীত অন্যান্য সময় অতিরিক্ত সাদাস্রাব হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 

অতিরিক্ত সাদাস্রাব হলে কি হয়

অতিরিক্ত-সাদাস্রাব-হওয়ার-কারণ
একটু আগে জানলেন অতিরিক্ত সাদাস্রাব হওয়ার কারণ সম্পর্কে। এই পর্যায়ে জানবেন অতিরিক্ত সাদাস্রাব হলে কি হয়। অতিরিক্ত সাদাস্রাব হলে কি হয় অর্থাৎ সাদাস্রাব হলে শরীরে কি কি লক্ষণ দেখা দেয়। 
  • জরায়ু থেকে বিভিন্ন রঙের দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হয়।
  • সবসময় মেজাজ খিটখিটে থাকে ও বিষন্নতা হতে পারে। 
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। 
  • যোনিদেশে অতিরিক্ত পরিমাণে চুলকানি হওয়া 
  • বমি বমি ভাব হতে পারে, আবার বমিও হতে পারে। 
  • শ্রোণিদেশ,কোমড় ও হাত পায়ে ব্যাথা হওয়া 
  • মাথা ঘোরানো এবং ক্ষুধার পরিমান কমে যাওয়া 
  • জ্বালা পোড়া করা 
  • প্রস্রাব বা সহবাসের সময় ব্যাথা হওয়া 
সুতরাং বলা যায় যে, সাদাস্রাব হলে উপরোক্ত লক্ষণগুলো শরীরে দেখা দিতে পারে। 

অতিরিক্ত সাদাস্রাব হলে করণীয় 

আপনার যদি অতিরিক্ত সাদাস্রাব দেখা দেয় তাহলে আপনি নিম্নোক্ত টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন তা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। 
অতিরিক্ত সাদাস্রাব দেখা দিলে তা নিয়ে কখনোই বসে থাকবেন না। অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। ডাক্তার আপনার নির্গত তরল পদার্থের ধরন শনাক্ত করে তাতে কোনো ধরনের জীবানু রয়েছে কিনা বা হোয়াইট ব্লাড সেলের সংখ্যা নির্ধারণ করে চিকিৎসা প্রদান করে থাকবেন। যদি হোয়াইট ব্লাড সেলের সংখ্যা দশ এর বেশি হয় তাহলে ডাক্তার ধরে নিবেন যে তার লিউকেমিয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করে থাকবেন। 

লিউকেমিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ডাক্তাররা প্রধানত লাইফস্টাইলে বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসার কথা বলেন। যদি তাতে বেশ কোনো কাজ না হয় তাহলে ওষুধ দিয়ে থাকেন। লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে -
  • কোনো ধরনের পারফিউম যোনি এলাকায় ব্যবহার করা যাবে না। 
  • যোনিতে সাবান ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। কেননা তা ইনফেকশন  তৈরি করতে পারে। 
  • অন্তরঙ্গ টাইট হয়ে থাকে এমন পোশাক পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং যোনিতে যতেষ্ট পরিমাণ বাতাস প্রবেশের সুযোগ করে দিতে হবে। 
  • দীর্ঘ সময় ধরে ভেজা কোনো অন্তবার্স ব্যবহার না করা। 
  • সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা। 
এই সমস্যার জন্য ডাক্তাররা এন্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এন্টিবায়োটিক খেলে অসুখটি সেরে যায়। আবার কখনো কখনো এন্টিফাংগাল ওষুধ বা হরমোনথেরাপিও দিয়ে থাকেন৷ 

সাদাস্রাব হলে ঘরোয়া কয়েকটি উপায় :

সাদাস্রাব হলে বেশ কয়েকটি ঘরোয়া উপায় মেনে চলে আপনি সমস্যাটি থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।চলুন তা দেখে নেই। 
অতিরিক্ত-সাদাস্রাব-হওয়ার-কারণ
  • বড় এলাচ, মিছরি এবং সমপরিমাণ ভুট্রা নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট দৈনিক তিনবার করে এক সপ্তাহ পর্যন্ত খান। একসপ্তাহ পর দৈনিক এক বার করে এক মাস খান। এটি আপনার খুবই উপকারে আসবে। 
  • সাদা ভরি বা মুসলি তিন গ্রাম সাথে তিন গ্রাম মিছরি নিয়ে গরম দুধের সাথে পান করুন। 
  • দুই থেকে তিন চামচ মধু নিয়ে তাতে এক চামচ আমলকী চূর্ণ মিশিয়ে এক মাস খান। 
  • একটি কাপে করে এক কাপ জল নিয়ে তাতে দশ গ্রাম পরিমাণ আদা গুড়ো মিশিয়ে খান। 
  • তুলসিপাতার রস এবং মধু একসাথে মিশিয়ে পান করুন। 
  • যদি আপনি রক্তস্বল্পতা রোগে ভোগে থাকেন তাহলে দৈনিক খেজুর, লতাপাতা, শাকসবজি এবং ফলমূল প্রচুর পরিমানে খান। 
  • জলের সাথে জিরা বাটা খান। প্রতিদিন কাঁচা টমেটোও খেতে পারেন। 
  • কলা ও দুধ একসাথে মিশিয়ে পান করুন। 
  • ডুমুর ফল সাদাস্রাবের জন্য বেশ ভালো কাজ করে। আপনি ডুমুরকে রান্না করে সবজি হিসাবে খেতে পারেন আবার ডুমুর ভেজানো পানিও খেতে পারেন।   
  • এক লিটার পানিতে তিন চামচ পরিমান মেথি বীজ ভেজান এবং তা ছেঁকে সারাদিন পান করুন। 
  • একটি গ্লাসে ধনেপাতা ভিজিয়ে তা পান করুন খুব ভালো উপকার পাবেন। 
  • সাদাস্রাব নিরাময়ের খুব ভালো কাজ করে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার। এটি এন্টিফাংগাল হিসেবে কাজ করে এবং যোনিপথের পিএইচডি বজায় রাখতেও ভালো ভূমিকা রাখেন। এজন্য অ্যাপেল সিডার ভিনেগারও খেতে পারেন এই সমস্যাটি অতিরিক্ত হলে। 
  • সাদাস্রাব ভালো করার আরেকটি কার্যকরী উপায় হচ্ছে পেয়ারা পাতা। পেয়ারা পাতা একটি পাতিলে নিয়ে তাতে পানি দিয়ে সেই পানিকে ততক্ষণ পর্যন্ত ফোটান যতক্ষণ না পর্যন্ত পানি বেশিরভাগই কমে না যায়।এরপর ঠান্ডা করে দৈনিক একবার করে পান করুন। 
  • ডালিম ফলের রয়েছে অনেক উপকারী গুন। এই ফলটি যদি আপনি কাঁচা হিসেবে বা এর থেকে রস বের করে খেতে পারেন। 
  • সাদাস্রাবের সমস্যায় ইন্ডিয়ান গুজবেরি খুব ভালো কাজ করে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। ইন্ডিয়ান গুজবেরি খাওয়ার পূর্বে তা টুকরো টুকরো করে কেটে আগে রোদে শুকাতে হবে। তারপর তা পিষে গুড়ো করতে হবে। তারপর তা থেকে দুই চামচ গুঁড়ো নিয়ে তাতে পরিমাণমত মধু মিশিয়ে কয়েকদিন খেলে খুব ভালো উপকার পাবেন। 
সুতরাং আপনার যদি অতিরিক্ত পরিমাণে সাদাস্রাব হয় তাহলে উপরোক্ত ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে দেখতে পারেন আশা করছি ভালো ফলাফল পাবেন। 

লেখকের মন্তব্য 

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে অতিরিক্ত সাদাস্রাব হওয়ার কারণ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সাদাস্রাব একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এই সমস্যাটি দেখা দিলে অবহেলা না করে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। কেননা অনেক সময় ক্যান্সার হওয়ার পূর্ব লক্ষণও হতে পারে অস্বাভাবিক সাদাস্রাব।আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার মতামত, পরামর্শ কিংবা প্রশ্ন আমাদের কমেন্ট করো জানাতে পারেন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট My Teach Info। ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

My Teach Info এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url