মাসিকের কতদিন পর গর্ভধারণ হয় [জেনে নিন]
গর্ভধারণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যখন এক বা একাধিক ভ্রুণ জরায়ুতে বিকাশ লাভ করে। একটি মেয়ের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম সময় হচ্ছে গর্ভধারণ। মাসিক বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে গর্ভধারণের শুরু হয়। অনেকেই জিজ্ঞাসা করে যে,মাসিকের কতদিন পর গর্ভধারণ হয়। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে মাসিকের কতদিন পর গর্ভধারণ হয় তা নিয়ে বর্ণনা করবো। কাজেই শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
তাছাড়া আরো আলোচনা করব- গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, মিলনের কতদিন পর প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে হয়,বাচ্চা পেটে অবস্থায় কি মাসিক হয়,বাচ্চা পেটে আসার লক্ষণগুলি কি কি,এক মাসের মধ্যে কি গর্ভবতী হওয়া যায়, গর্ভাবস্থায় তলপেটে ব্যাথা হয় কেনো।
আর্টিকেল সূচিপত্র - মাসিকের কতদিন পর গর্ভধারণ হয় সংশ্লিষ্ট সূচিপত্র
- মাসিকের কতদিন পর গর্ভধারণ হয়
- গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর মাসিক বন্ধ হয়ে যায়
- মিলনের কতদিন পর প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে হয়
- বাচ্চা পেটে অবস্থায় কি মাসিক হয়
- বাচ্চা পেটে আসার লক্ষণগুলি কি কি
- এক মাসের মধ্যে কি গর্ভবতী হওয়া যায়
- গর্ভাবস্থায় তলপেটে ব্যাথা হয় কেনো
- লেখকের মন্তব্য
আরও পড়ুনঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কোথায় অবস্থিত
মাসিকের কত দিন পর গর্ভধারণ হয়
মাসিকের কতদিন পর গর্ভধারণ হয় তা নিয়ে পোস্টের শুরুতেই বর্ণনা করবো -
একজন মহিলার জীবনের সাথে মাসিক এতপ্রোতভাবে জড়িত। একজন মেয়ের যখন প্রথম মাসিক হয় তখন সে গর্ভধারণ করার ক্ষমতা লাভ করে। সাধারণত প্রত্যেক মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মেয়েদের মাসিক হয়ে থাকে।একটি মাসিক চক্র ২৮ দিন থেকে ৩৫ দিনের মতো হয়ে থাকে। একেক মহিলার ক্ষেত্রে এই মাসিক চক্র একেক রকম।যেমন - কারো ২৮ দিন, কারো ৩২ দিন বা ৩৫ দিন। পিরিয়ড এর প্রথম দিন থেকে শুরু করে প্রথম ১০ দিন এবং ২৮ দিনের শেষ ১০ দিন হচ্ছে নিরাপদ সময়। এই সময় সহবাস করলেও বাচ্চা হয় না। এক্ষেএে মাসিক হওয়ার ১১ তম থেকে ১৪ তম দিনের মধ্যে কেউ যদি সহবাস করে তাহলে গর্ভবতী হওয়ার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে যদি কোনো রকমের অসুখ শরীরে না থাকে।
এই সময়ের মধ্যে ডিম্বাশয় থেকে ডিম রিলিজ হয়। এই ডিম ২৪-৪৮ ঘন্টা ফেলোপিয়ান টিউবে অবস্থান করে। সেইফ পিরিয়ড সময় ব্যাতীত অন্য সময়ে সহবাস করতে হবে। গর্ভধারণ করার জন্য অবশ্যই নিজের মাসিক চক্র লক্ষ রাখবেন। কারো মাসিক চক্র যদি ২৬ দিনের হয় তাহলে সেখান থেকে ১৮ বিয়োগ করতে হবে যা দাঁড়ায় ৮ অর্থ্যাৎ অষ্টম দিন থেকে ফারটাইল সময় শুরু হবে। আবার ৩৩ দিনের ফারটাইল হলে সেখান থেকে ১১ বিয়োগ করে অর্থাৎ ২৬ তম দিন হচ্ছে ফারটাইলের শেষ সময়। আপনার ৮ থেকে ১১ দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন ডিম্বাণু বের হতে পারে। এসময় সহবাস করলে আপনি গর্ভধারণ করতে পারেন। মাসিকের কতদিন পর গর্ভধারণ হয় আশা করি প্রশ্নের উওরটি বুঝতে পেরেছেন।
আরও পড়ুনঃ সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ
গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর মাসিক বন্ধ হয়ে যায়
একটু আগে জানলেন মাসিকের কতদিন পর গর্ভধারণ হয় এবার জানবেন গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পরে মাসিক বন্ধ হয়ে যায় তা সঠিকভাবে কখনো বলা সম্ভব নয়। আমি একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটি ভালো করে বুঝিয়ে দিচ্ছি। মনে করেন যে, আপনার প্রতিমাসের ১৫ তারিখে পিরিয়ড হয় এবং পিরিয়ড ভালো হয় ২০ তারিখে। এক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত আপনার সেইফ পিরিয়ড। আবার ২৫ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত আপনার ডেঞ্জারাস পিরিয়ড। এসময় যদি আপনি মিলন করেন তাহলে আপনার বেবি কনসিভ করতে পারে। তবে যদি কনসিভ হয়ও আপনি বুঝতে পারবেন না। কেননা পরবর্তী মাসে যদি আপনার পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায় এবং তা কাঠি বা ইউরিন পরীক্ষা করে বুঝেন তাহলেই পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ বুঝতে পারবেন।
যেহেতু আপনি ২৫ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত মিলন করেছেন এবং কোনদিন আপনার ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়েছে তা জানতে পারবেন না। যেদিন থেকে ডিম্বাণু নিষিক্ত হবে সেই দিন থেকেই মাসিক বন্ধ হয়ে যাবে। তবে কয়দিন পর মাসিক বন্ধ হয়ে যায় তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব যদি আপনি বিপদজনক ১০ দিনের মধ্যে ১ দিন মিলন করেন এবং পরবর্তী মাসে আপনি কনসিভ করেন। এক্ষেত্রে যদিন মিলন হলেন তার থেকে পরবর্তী মাসের আপনার পিরিয়ড হওয়ার তারিখ পর্যন্ত যতদিন হবে ততদিন পর মাসিক বন্ধ হয় এটা বলতে পারবেন। নয়তো গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর মাসিক বন্ধ হয় তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুনঃ করোসল ফল বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায়
মিলনের কতদিন পর প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে হয়
গর্ভধারণ বা প্রেগনেন্সি নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করে থাকে বিবাহিত মহিলারা। তাদের একটি কমন জিজ্ঞাসা হচ্ছে মিলনের কতদিন পর প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে হয়৷ প্রত্যেক নারীর জন্য গর্ভাস্থার সুখবর পাওয়া সবচেয়ে বেশি আনন্দের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিলন হলেই কোনো নারী প্রেগনেন্ট হয়ে যায় না। কেননা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। সাধারণত একটি শুক্রাণুর জরায়ুতে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। তারপর শুক্রানুটি ডিম্বানুর সাথে মিলিত হয়ে ভ্রুণ গঠন করে। এক্ষেত্রে গর্ভধারণ করতে সময় লাগে তিন থেকে চার দিনের মতো। অন্যদিকে একটি শুক্রাণু ৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। গর্ভধারণ হতে হলে এই সময়ের মধ্যে ডিম্বাণু নিষিক্ত হতে হবে। একজন নারী গর্ভবতী হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তার শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। তবে পরীক্ষা করে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে।
যদি দেখেন যে আপনার পিরিয়ডের তারিখ পার হয়ে গেছে কিন্তু আপনার পিরিয়ড হচ্ছে না সেক্ষেত্রে আপনি পিরিয়ডের তারিখ পার হওয়ার ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ঘরোয়া একটি পরীক্ষা যেমন কাঠি পরীক্ষা করে নিতে পারেন। যদি ইতিবাচক ফলাফল দেখেন সেক্ষেত্রে আপনি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ
বাচ্চা পেটে থাকা অবস্থায় কি মাসিক হয়
মাসিক হওয়া হচ্ছে শরীরের একটি স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে যদি মাসিক বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তা হচ্ছে গর্ভবতী হওয়ার কারণ। সাধারণত পেটে বাচ্চা থাকা অবস্থায় মাসিক হয় না তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তপাত হতে পারে। যেমন-
- প্লাসেন্টা প্রভিয়া - এটি হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যাতে প্লাসেন্টা ইউটেরাসের দেয়াল থেকে আলাদা হয়ে যায়।
- গর্ভাস্থায় কোনো কারণে জরায়ুতে আঘাত পাওয়া।
- ভ্রণের যদি অক্সিজেনের অভাব হয় তাহলে রক্তপাত হতে পারে।
সুতরাং বলা যায়, বাচ্চা পেটে থাকা অবস্থায় মাসিক হয় না, তবে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে রক্তপাত হতে পারে। এসময় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন৷
আরও পড়ুনঃ মহাখালী কলেরা হাসপাতাল ঠিকানা
বাচ্চা পেটে আসার লক্ষণগুলি কি কি
বাচ্চা পেটে আসলে যেসব লক্ষণ দেখা দিবে সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:-
মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া হচ্ছে বাচ্চা পেটে আসার প্রধান লক্ষণ।গর্ভাবস্থায় শরীরে অনেক শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন-
- বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- খাবারে অরুচি
- ক্লান্তি বোধ করা
- মেজাজ পরিবর্তন হওয়া
- স্তন নরম হয়ে যাওয়া
- মাথা ব্যাথা
- বুক জ্বালাপোড়া করা
- বেশি বেশি প্রসাব হওয়া
- নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি আকর্ষন বা তিক্ততা
- বুক জ্বালাপোড়া করা
- ওজন বৃদ্ধি পাওয়া বা হ্রাস পাওয়া
সুতরাং পেটে বাচ্চা আসলে শরীরে হরমোনাল অনেক পরিবর্তন দেখা যায়।
আরও পড়ুনঃ কলেরা রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ
এক মাসের মধ্যে কি গর্ভবতী হওয়া যায়
এক মাসের মধ্যে গর্ভবতী হওয়া যায় কি না তা স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কোন দম্পতি যদি কোনো ধরনের গর্ভনিরোধক ব্যবহার না করে তাহলে তাদের বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। গর্ভবতী হওয়া তখনই সম্ভব যখন মায়ের ডিম্বাণু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হবে। সেটা যদি একমাসের মধ্যে হয় তাহলে এক মাসের মধ্যে গর্ভবতী হওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই প্রচুর চেষ্টা করতে হবে। সুতরাং এক মাসের মধ্যে গর্ভবতী হওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুনঃ ডায়রিয়া হলে করণীয় কি
গর্ভাবস্থায় প্রথম মাসে তলপেটে ব্যাথা হয় কেনো
গর্ভাবস্থায় প্রথম মাসে তলপেটে হালকা হালকা ব্যাথা হওয়া স্বাভাবিক তবে গুরুতর ব্যাথা চিন্তার কারণ। হালকা ব্যাথা হলে এমনিতেই সেরে যায়।বিভিন্ন কারণে এই ব্যাথা হতে পারে যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, জরায়ুর প্রসারণ ইত্যাদি। জরায়ু যেহেতু এই সময়ে বেশি প্রসারণ হয় সেজন্য তলপেটে ব্যাথা হতে পারে। ব্যাথা যদি হালকা হয় তাহলে সমস্যা নাই। তবে যদি তা মাএাতিক্ত হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন।
আরও পড়ুনঃ মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায়
লেখকের মন্তব্য
আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে মাসিকের কতদিন পর গর্ভধারণ হয় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। গর্ভধারণ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম জিনিস। এই সময়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। আশা করছি আর্টিকেলটি থেকে অনেক নতুন তথ্য পেয়েছেন। আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট করতে পারেন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট My Teach Info। ধন্যবাদ।
My Teach Info এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url