ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত[ইতিহাস,নির্মাণ,টিকিট মূল্য]
ষাটগম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন একটি মসজিদ। ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যমন্ডিত স্থপতি হচ্ছে ষাটগম্বুজ মসজিদ। তুঘলক এই স্থাপত্য শৈলী সম্পর্কে সবাই জানতে চায় যে, ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত তা নিয়ে আলোচনা করবো। কাজেই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
তাছাড়া আরও আলোচনা করব -ষাটগম্বুজ মসজিদ কে নির্মাণ করেছিলেন, ষাটগম্বুজ মসজিদের ইতিহাস, ষাটগম্বুজ মসজিদ ছবি, ষাটগম্বুজ মসজিদের গম্বুজ সংখ্যা কয়টি, ষাটগম্বুজ মসজিদের টিকিট মূল্য কত, ষাটগম্বুজ মসজিদ কখন খোলা ও বন্ধ থাকে, ষাটগম্বুজ মসজিদ যাওয়ার উপায়।
আর্টিকেল সূচিপত্র - ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট সূচিপত্র
- ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত
- ষাটগম্বুজ মসজিদ কে নির্মাণ করেছিলেন
- ষাটগম্বুজ মসজিদের ইতিহাস
- ষাটগম্বুজ মসজিদ ছবি
- ষাটগম্বুজ মসজিদের গম্বুজ সংখ্যা কয়টি
- ষাটগম্বুজ মসজিদের টিকিট মূল্য কত
- ষাটগম্বুজ মসজিদ কখন খোলা ও বন্ধ থাকে
- ষাটগম্বুজ মসজিদ যাওয়ার উপায়
- আর্টিকেল সম্পর্কিত প্রশ্ন-উত্তর
- লেখকের মন্তব্য
ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত
ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত এ সম্পর্কে আর্টিকেলের শুরুতে জানতে পারবেন।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিভাগ হচ্ছে খুলনা। আর এই খুলনা বিভাগের একটি জেলা হচ্ছে বাগেরহাট। ষাটগম্বুজ মসজিদটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। এটি বাগেরহাট জেলার ১৬০৫ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে অবস্থিত।যার স্থানাঙ্ক হচ্ছে ৮৯°৪৪'৩১" পূর্ব এবং ২২°৪০'২৮" উত্তর। মসজিদটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত হলেও বাগেরহাটের প্রধান শহর হতে প্রায় তিন মাইল বা ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই প্রাচীন মসজিদটির গায়ে কোন শিলালিপি নেই। বাগেরহাটের শহর থেকে দূরে বাসস্টপেজ লাঘোয়া সুন্দরঘোনা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদের অবস্থান।
ষাটগম্বুজ মসজিদ কে নির্মাণ করেছিলেন
একটু আগে জানলেন ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত? এবার জানবেন ষাটগম্বুজ মসজিদ কে নির্মাণ করেছিলেন। ষাটগম্বুজ মসজিদ কে নির্মাণ করেছিলেন তার সঠিক তথ্য এখনো অজানা। তবে ধারণা করা হয় যে ষাটগম্বুজ মসজিদটি খান জাহান আলি নির্মাণ করেন। মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল প্রায় ১৫ শতাব্দীর দিকে। মসজিদটি বহু বছর ধরে বহু অর্থ খরচের বিনিময়ে তৈরি করা হয়েছিল। মসজিদের নামকরণ নিয়েও রয়েছে বহু মত পার্থক্য। কেউ কেউ মনে করেন যে, মসজিদের ভিতরে দশ সারিতে মোট ষাটটি পাথর রয়েছে এবং এই পাথরগুলোর উপর মসজিদের স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এজন্য এর নাম হয়েছে ষাটগম্বুজ মসজিদ। মসজিদটি সমতল নয় বরং গম্বুজ আকৃতির।
খান জাহান আলী ছিলেন বাগেরহাটের একজন সাধক সেনাপতি। সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ এর রাজত্বকালে সময় তিনি ধর্ম প্রচার করতেন। সেই সময় তিনি বাগেরহাট শহরে এক ডজনরেরও বেশি মসজিদ তৈরি করেছিলেন যার ধ্বংসস্তূপ ষাটগম্বুজ মসজিদের আশেপাশে কেন্দ্রীভূত।
আরও পড়ুনঃ জমির খতিয়ান বের করার নিয়ম
ষাটগম্বুজ মসজিদের ইতিহাস
ষাটগম্বুজ মসজিদ তৈরি হয় সুলতানি আমলে। ধারণা করা হয় ফিরোজ শাহের আমলে সুদূর দিল্লি থেকে খান জাহান আলী ইসলাম প্রচার করার জন্য বিশাল সৈন্যবাহিনী ও ভক্ত নিয়ে প্রথমে রাজশাহীর সোনা মসজিদে আসেন। তারপর তিনি ক্রমান্বয়ে ফরিদপুর, বাগেরহাট এবং বিভিন্ন অঞ্চলে তাবু তৈরি করেন। মসজিদটি তৎকালীন সময়ে শৈ-গোস্বাদ নামে পরিচিত ছিল।মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১৪৪২ সালের দিকে এবং নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৪৯৯ সালের দিকে।
ষাটগম্বুজ মসজিদ তৈরির প্রধান উপাদান ছিল চুন, কালো পাথর, ছোট ইট এবং সুরকি। অনেকে মনে করেন মসজিদ তৈরির পাথরগুলো মূলত ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য থেকে তার অলৌকিক ক্ষমতার মাধ্যমে এনেছিলেন। আবার অনেকে বলে থাকেন এগুলো চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিলেন। মসজিদের পূর্ব দিকের দেয়ালে রয়েছে ১১ টি বিরাট আকারের খিলানযুক্ত দরজা। মসজিদে চার কোণে রয়েছে চারটি মিনার এবং উত্তর দক্ষিণের দেয়ালে রয়েছে সাতটি করে দরজা। মসজিদের ভিতরে রয়েছে ষাটটি পিলার বা সম্ভ। ষাটগম্বুজ মসজিদটির নাম শুনে মনে করা হয়েছে এতে সাতটি স্তম্ভ রয়েছে কিন্তু মোটেও তা নয়। ষাট গম্বুজ মসজিদের রয়েছে ৭৭ টি গম্বুজ। ৭০ টি গম্বুজ হচ্ছে গোলাকার এবং সাতটি গম্বুজ হচ্ছে চৌচালা ঘরের মতো। মসজিদের ভেতরের পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে দশটি মেহরাব এবং মেহেরাব গুলোর মধ্যে মাঝের মেহেরাবটি সবচেয়ে বড়। উত্তর দিকে রয়েছে চারটি মেহরাব এবং দক্ষিণে পাঁচটি মেহরাব। উত্তর দিকে একটি মেহরাবের পরিবর্তে একটি ছোট দরজা রয়েছে। অনেকের মতে মসজিদটি নামাজ ঘর ছাড়াও দরবারঘর হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। আবার অনেকে বলেন মসজিদটি মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
মসজিদটি বাইরের দিক থেকে ১৪৩ ফুট লম্বা এবং ভেতরের দিক থেকে ১৬০ ফুট লম্বা। মেঝে থেকে ছাদের উচ্ছতা হচ্ছে ২১ ফুট। মসজিদটি আট ফুট উচ্চতার প্রাচীর ঘেরা। মসজিদের সৌন্দর্য কে বাড়িয়ে দিয়েছে মসজিদের পাশে থাকা ঘোড়া দিঘি। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদের গম্বুজকে সাধারণত ঐশী প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। গম্বুজের এমন ব্যবহার অবশ্যই প্রমাণ করে যে মুসলমানদের ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক জীবন একে অপরের সাথে জড়িত।
আরও পড়ুনঃ জমি না কিনে কিভাবে বাড়ি বানাবো?
ষাটগম্বুজ মসজিদ ছবি
ষাটগম্বুজ মসজিদের গম্বুজ সংখ্যা কয়টি
অনেকেই জানতে চান যে ষাটগম্বুজ মসজিদে কতটি গম্বুজ রয়েছে। বলে রাখা ভালো যে, ষাটগম্বুজ মসজিদে গম্বুজ সংখ্যা হচ্ছে ৮১ টি। নাম শুনে হয়তো মনে হতে পারে যে ষাটগম্বুজ মসজিদে ৬০টি গম্বুজ রয়েছে। আসলে গম্বুজ সংখ্যা হচ্ছে ৮১ টি।
আরও পড়ুনঃ কলেজ এর বাংলা অর্থ কি
ষাটগম্বুজ মসজিদের টিকিট মূল্য কত
এই পর্যায়ে জানতে পারবেন ষাটগম্বুজ মসজিদের টিকিট মূল্য সম্পর্কে। ষাটগম্বুজ মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি নামাজের সময় ষাটগম্বুজ মসজিদে প্রবেশ করেন তাহলে আপনাকে কোন ফি দিতে হবে না। আপনি যদি বিদেশি কোন পর্যটক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার প্রবেশ মূল্য হচ্ছে 500 টাকা। আবার আপনি যদি সার্কভুক্ত কোন দেশের নাগরিক হন তাহলে আপনার প্রবেশ মূল্য হবে ২০০ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফি হচ্ছে ১০ টাকা এবং বেশি পর্যটকদের ফি ৩০ টাকা। একই ফি দিয়ে আপনি মসজিদের অভ্যন্তরের জাদুঘরও দেখতে পারবেন। আবার পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের কোন টিকিট ফি লাগেনা।
আরও পড়ুনঃ সার্বিয়া থেকে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
ষাটগম্বুজ মসজিদ কখন খোলা ও বন্ধের থাকে
ষাটগম্বুজ মসজিদ যাওয়ার আগে অনেক পর্যটক জানতে চায় যে ষাটগম্বুজ মসজিদ কখন খোলা এবং বন্ধ থাকে। সাধারণত মসজিদটি সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালে হচ্ছে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল পাঁচটা এবং গ্রীষ্মকালে হচ্ছে সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। সপ্তাহে রোববার মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে এবং সোমবার দুপুর ২ টা থেকে খোলা থাকে। জুম্মার দিন ১২ঃ৩০ থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে এবং তিনটার পর থেকে খোলা থাকে।
ষাটগম্বুজ মসজিদ যাওয়ার উপায়
বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে আপনি ষাটগম্বুজ মসজিদ যেতে পারবেন। উত্তরবঙ্গের কোন জায়গা থেকে ষাট গম্বুজ মসজিদ যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে বাগেরহাট আসতে হবে। ঢাকার গাবতলী এবং সায়েদাবাদ থেকে প্রতিদিন ষাটগম্বুজ মসজিদের উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে।এখান থেকে এসি ননএসি যে কোন বাসে আপনি যেতে পারবেন। বাসগুলোর ভাড়া ৬৫০ থেকে ৮০০ এর মধ্যে হয়ে থাকে। বাস ছাড়া ট্রেনেও আপনি ষাটগম্বুজ মসজিদ যেতে পারবেন। ট্রেনে যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে খুলনাতে আসতে হবে। তারপর বাগেরহাট শহরে যাবেন। বাগেরহাট শহর থেকে অটো বা রিক্সা ভাড়া নিবে ৩০ থেকে ৪০ টাকা ষাটগম্বুজ মসজিদ যাওয়ার জন্য।
আরও পড়ুনঃ মরিশাস ভিসা কবে খুলবে
আর্টিকেল সম্পর্কিত প্রশ্ন-উত্তর
প্রশ্ন ১: ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর:ষাটগম্বুজ মসজিদ খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
প্রশ্ন ২:ষাটগম্বুজ মসজিদের গম্বুজ সংখ্যা কতটি?
উত্তর:ষাট গম্বুজ মসজিদের গম্বুজ সংখ্যা হচ্ছে 81 টি।
প্রশ্ন ৩: ষাটগম্বুজ মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
উত্তর:ষাটগম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন খানজাহান আলী।
প্রশ্ন ৪:ষাটগম্বুজ মসজিদ কখন নির্মাণ করা হয়?
উত্তর:ষাটগম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করা হয় ১৫ শতাব্দীর দিকে।
আরও পড়ুনঃ বাহরাইন যেতে কত টাকা লাগে
লেখকের মন্তব্য
আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের ষাটগম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করছি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি ষাটগম্বুজ মসজিদ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন। আর্টিকেলটি পড়ে ভালো লাগলে আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার মতামত পরামর্শ কিংবা প্রশ্ন আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। প্রতিদিন নতুন নতুন আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট My Teach Info ভিজিট করতে পারেন।
My Teach Info এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url