তিউনিসিয়া কাজের ভিসা - ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া
তিউনিসিয়া দেশটি উওর আফ্রিকার একটি দেশ। দেশটিতে কাজ করার স্বপ্ন দেখে হাজারো বাংলাদেশী। বাংলাদেশের কাজের ক্ষেত্রে শ্রমের মূল্য অনেক কম হওয়ার কারণে সবাই প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।এজন্য তারা এরকম চিন্তা ভাবনা করে যে কাজের ভিসা নিয়ে তিউনিসিয়া যেয়ে পরে ইতালিতে গেম দিবে। তিউনিসিয়া কাজের ভিসা সম্পর্কে যারা জানতে চায় পোস্টটি তাদের জন্যই। আমাদের এই আর্টিকেলে তিউনিসিয়া কাজের ভিসা নিয়ে আলোচনা করবো। কাজেই শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
তাছাড়া আরো আলোচনা করব - তিউনিসিয়া কাজের ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তিউনিসিয়া কাজের ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া, তিউনিসিয়া কাজের ভিসা পেতে কত সময় লাগে, তিউনিসিয়া কাজের বেতন কত, বাংলাদেশ থেকে তিউনিসিয়া যেতে কত টাকা লাগে, ভিসা ছাড়া তিউনিসিয়ায় কত দিন থাকা যায়।
আর্টিকেল সূচিপত্র - তিউনিসিয়া কাজের ভিসা সংশ্লিষ্ট সূচিপত্র
- তিউনিসিয়া কাজের ভিসা
- তিউনিসিয়া কাজের ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- তিউনিসিয়া কাজের ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া
- তিউনিসিয়া কাজের ভিসা পেতে কত সময় লাগে
- তিউনিসিয়া কাজের বেতন কত
- বাংলাদেশ থেকে তিউনিসিয়া যেতে কত টাকা লাগে
- ভিসা ছাড়া তিউনিসিয়ায় কত দিন থাকা যায়
- আর্টিকেল সম্পর্কিত প্রশ্ন-উত্তর
- লেখকের মন্তব্য
তিউনিসিয়া কাজের ভিসা
তিউনিসিয়া কাজের ভিসা নিয়ে পোস্টের শুরুতেই বর্ণনা করবো -
তিউনিসিয়াতে কাজের অনেক সুবিধা রয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়। তিউনিসিয়ার অর্থনীতি প্রচুর সমৃদ্ধশালী এবং রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সাংস্কৃতিক কর্মক্ষেএ।দেশটি ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থানের কারণে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আফ্রিকার সাথে ভালো সংযোগ। বিভিন্ন ধরনের কাজের ভিসা তিউনিসিয়া সরকার প্রদান করে থাকে। যেমন - স্বকর্মসংস্থান ভিসা, এই ভিসাটি মূলত তাদের দেওয়া হয় যারা তিউনিসিয়াতে যেয়ে ব্যাবসা বা ফ্রিলান্সিং করতে চান। আরেকটি ভিসা হচ্ছে লং টার্ম ভিসা, এই ভিসাটি তাদেরকে দেওয়া হয় যারা তিউনিসিয়াতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান অথবা যারা চুক্তিভিওিক কাজ করতে চান। আপনি যদি স্বল্পমেয়াদী কোনো কাজ যেমন সফর বা অস্থায়ী কাজ করতে চান তাহলে আপনাকে শর্ট টার্ম ভিসা দেওয়া হবে। এই ভিসার মেয়াদ হয়ে থাকে ৯০ দিনের মতো।
বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে কাজের ভিসা বন্ধ রয়েছে। এজন্য আপনি তিউনিসিয়ার ভিসা চাইলেও করতে পারবেন না। কাজের ভিসা ছাড়া আপনি স্টুডেন্ট ভিসা বা টুরিস্ট ভিসায় যেতে পারবেন। তবে বৈধভাবে আপনি যদি তিউনিসিয়া যেতে চান তাহলে সরকার নিবন্ধিত বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করবেন। আর তিউনিসিয়া কাজের ভিসা যদি আপনি ভারতের এম্বাসি থেকে আবেদন করতে পারেন তাহলে ভিসা পাওয়ার চান্স খুবই বেশি। দালালের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার জন্য অবশ্যই ভালো করে যাচাই-বাছাই করে নিবেন।
আরও পড়ুনঃ লিবিয়া থেকে ইতালি কত কিলোমিটার
তিউনিসিয়া কাজের ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
একটু আগে তিউনিসিয়া কাজের ভিসা নিয়ে আলোচনা করলাম। এই পর্যায়ে জানতে পারবেন তিউনিসিয়া কাজের ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে। চলুন তাহলে একনজরে দেখে নেই -
- প্রথমত একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং পাসপোর্টের মেয়াদ হতে হবে কমপক্ষে ছয় মাস।
- ভিসার পূরণকৃত আবেদন ফরম। এই আবেদন ফরমটি তিউনিসিয়ার কনস্যুলেট থেকে সংগ্রহ করে সঠিকভাবে তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
- স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদপএ
- তিউনিসিয়ার নিয়োগকর্তা কর্তৃক অফার লেটার
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ছবিটি অবশ্যই সাম্প্রতিক হতে হবে।
ভিসার আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই উপরোক্ত ডকুমেন্টস গুলো সংগ্রহ করে নিবেন। কোনো কাগজপএে যদি কোনো ধরনের ভুল থাকে তাহলে আগেই সংশোধন করে নিবেন। তা না হলে ভিসা পেতে বিলম্বের শিকার হতে হবে।
তিউনিসিয়া কাজের ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া
আপনি যদি তিউনিসিয়ার কাজের ভিসা পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। সঠিকভাবে আবেদন করা ব্যতীত আপনি ভিসা পাবেন না। আর্টিকেলের এই পর্যায়ে আপনি জানবেন তিউনিসিয়া কাজের ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে।
- কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে তিউনিসিয়ার কনস্যুলেট বা দূতাবাস থেকে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফর্ম অবশ্যই সঠিক তথ্য দিয়ে সঠিকভাবে পূরণ করবেন।
- এবার আবেদনপএের সাথে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপএ সংযুক্ত করে জমা দিন।
- ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন ফি জমা দিন।
- তারপর নির্দিষ্ট দিনে আপনাকে দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষাৎকার প্রদান করতে হবে।
- ভিসা প্রসেসিং শেষ হলে ফোনে একটি মেসেজ আসবে এবং নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত হয়ে ভিসা সংগ্রহ করে নিবেন।
সুতরাং উপরোক্ত উপায়ে আপনি তিউনিসিয়া কাজের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করতে যেয়ে যদি কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন তাহলে অবশ্যই দূতাবাসে যোগাযোগ করবেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে স্পেন যেতে কত টাকা লাগে
তিউনিসিয়া কাজের ভিসা পেতে কত সময় লাগে
অনেকেই ভিসার আবেদন করার পর জিজ্ঞাসা করে যে তিউনিসিয়া ভিসা পেতে কত দিন লাগবে? তিউনিসিয়া কাজের ভিসা পেতে সাধারণত দুই থেকে ছয় সপ্তাহ লাগে। বিভিন্ন কারণে ভিসা পেতে দেরি হতে পারে। যেমন - আবেদনের সংখ্যা, দূতাবাসের ব্যাস্ততা ইত্যাদি। ভিসা পেতে দেরি হলে ধৈর্য্যহারা হবেন না।আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন, ভিসা হয়ে যাবে।
তিউনিসিয়া কাজের বেতন কত
তিউনিসিয়া কাজের বেতন কত হবে তা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে থাকে।সাধারণত তিউনিসিয়ার গড় বেতন এক হাজার থেকে দুই হাজার তিউনিসিয়ান দিনার হয়ে থাকে। তিউনিসিয়ায় সর্বনিম্ন বেতন হয়ে থাকে ৪৫০ থেকে ৬০০ তিউনিসিয়ান দিনারের মধ্যে। আপনি যদি স্বাস্থ্য খাতে কাজ করে থাকেন তাহলে আপনার গড় বেতন হয়ে থাকবে ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ তিউনিসিয়ান দিনার। আবার আপনি যদি শিক্ষা খাতে কোনো জব করেন তাহলে গড় বেতন হয়ে থাকবে ১২,০০ থেকে ২,২০০ তিউনিসিয়ান দিনার।
বাংলাদেশ থেকে তিউনিসিয়া যেতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশ থেকে তিউনিসিয়া যেতে কত টাকা লাগে তা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে থাকে। যেমন -ভিসার ধরন, যাতায়াত ভাড়া, ভিসা ফি ইত্যাদি। আপনি যদি ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যান তাহলে খরচ একরকম হবে, আবার স্টুডেন্ট ও টুরিস্ট ভিসায় যেতে খরচ আরেক রকম হবে। বাংলাদেশ থেকে তিউনিসিয়া যেতে আপনার বিমান ভাড়া পড়বে ৮০ হাজার থেকে একটা লক্ষ বিশ হাজার টাকার মতো। সিজনভেদে টাকার পরিমাণ পরিবর্তনও হতে পারে। ভিসা ফি লাগবে দশ হাজার থেকে বিশ হাজারের মধ্যে।স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লাগতে পারে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকার মতো। তাছাড়া বিমা খরচ এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আপনি যদি তিউনিসিয়ায় টুরিস্ট ভিসায় যান তাহলে এক লক্ষ বিশ হাজার থেকে এক লক্ষ আশি হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে। আবার কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে খরচ হবে তিন থেকে চার লক্ষ টাকার মতো। আপনি যদি দালালের সাহায্য নেন তাহলে টাকার পরিমাণ আরো বাড়বে।
ভিসা ছাড়া তিউনিসিয়ায় কত দিন থাকা যায়
ভিসা ছাড়া তিউনিসিয়ায় কত দিন থাকা যায় বলতে বোঝায় যে, আপনার যদি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তাহলে আপনি কতদিন তিউনিসিয়ায় থাকতে পারবেন। তিউনিসিয়া যাওয়ার পর যদি আপনার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তাহলে আপনি সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত তিউনিসিয়ায় অবস্থান করতে পারবেন।
আর্টিকেল সম্পর্কিত প্রশ্ন-উত্তর
প্রশ্ন ১: তিউনিসিয়ার নিকটবর্তী দেশ কোনটি?
উত্তর:তিউনিসিয়ার উওর-পূর্ব ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণ -পূর্বে লিবিয়া এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিমে আলজেরিয়া অবস্থিত।
প্রশ্ন ২:তিউনিসিয়ার কোন অংশ সবচেয়ে ভালো?
উত্তর: তিউনিসিয়ার হাম্মামেট অংশ সবচেয়ে ভালো।
প্রশ্ন ৩: তিউনিসিয়া কি তৃতীয় বিশ্বের দেশ?
উত্তর:হ্যাঁ। তিউনিসিয়া তৃতীয় বিশ্বের দেশ।
প্রশ্ন ৪:তিউনিসিয়ায় হোটেল কয়টি?
উত্তর: তিউনিসিয়ায় হোটেল রয়েছে ৮০০ টি।
প্রশ্ন ৫:ভিসা ছাড়া তিউনিসিয়াশ কত দিন থাকা যায়?
উত্তর:ভিসা ছাড়া তিউনিসিয়ায় ৯০ দিন থাকা যায়।
প্রশ্ন ৬:তিউনিসিয়ায় কাজের ভিসা পেতে কত সময় লাগে?
উত্তর: তিউনিসিয়ায় কাজের ভিসা পেতে দুই থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে।
প্রশ্ন ৭:কোন মাসে তিউনিসিয়া যাওয়া ভালো?
উত্তর:জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিউনিসিয়া যাওয়া ভালো।
প্রশ্ন ৮:তিউনিসিয়া যেতে ভিসা লাগবে?
উত্তর:অবশ্যই তিউনিসিয়া যেতে ভিসা লাগবে।
আরও পড়ুনঃ ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫
লেখকের মন্তব্য - তিউনিসিয়া কাজের ভিসা
আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে তিউনিসিয়া কাজের ভিসা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করছি আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হবেন। কাজের ভিসার আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই ভালো এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করবেন। আপনি যদি দেশ থেকেই কোনো কাজ ভালোভাবে শিখে যেতে পারেন তাহলে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার মতামত, পরামর্শ কিংবা প্রশ্ন আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমৃদ্ধ পোস্ট পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট My Teach Info। ধন্যবাদ।
My Teach Info এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url